জিয়াসহ বঙ্গবন্ধু হত্যার সকল নেপথ্য কুশীলবদের বিচারের আওতায় আনতে হবে : হাছান

জাতীয়

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের নেপথ্য কুশীলবদের বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত জাতির পিতার বিচার সম্পূর্ণ হবে না। মন্ত্রী জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নগরীর তথ্য ভবনে আজ এক আলোচনা সভায় বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় তার বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’


তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর তৎকালীন ডেপুটি প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান তার কর্তব্য পালন না করে বরং তিনি হত্যাকারীদের সমর্থন করেছিলেন। অতএব এই হত্যাকান্ডের সকল নেপথ্য কুশীলবকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর গণযোগাযোগ অধিদফতর এবং চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ইসতাক হোসেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, তথ্য সচিব আব্দুল মালেক, গণযোগাযোগ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. জাকির হোসেন ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র বোর্ডের সহ-সভাপতি নিজামুল কবির আলোচনায় অংশ নেন।


প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী জাতির পিতার জীবনকে অকুতোভয় সংগ্রামের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনিসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য কুশীলবদের বিচারের জন্য একটি কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি। বিচার এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। কারণ পলাতক খুনি ও পর্দার আড়ালে থাকা হত্যা পরিকল্পনাকারীদের এখনো বিচার হয়নি।’


হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি স্বাধীন দেশ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সুদীর্ঘকাল ধরে স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করেছেন এবং তিনি স্বাধীনতা ঘোষণার একটা উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। বঙ্গবন্ধু কখনোই মৃত্যুকে ভয় পাননি। এ কারণেই তিনি রাষ্ট্রশক্তির সঙ্গে আপোস করেননি। সাহসের সঙ্গে সকল বৈরী পরিস্থিতি মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার জন্য এ জাতিকে প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু তার হত্যাকান্ডের পর ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চালানোর জন্য বিএনপিকে অভিযুক্ত করে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া আর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা এক জিনিস নয়। জিয়া তার জীবিতাবস্থায় কখনোই তার স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার কথা দাবি করেননি। তার মৃত্যুর পর বিএনপি এ বিষয়ে বিভ্রান্তকর বক্তব্য দিতে শুরু করে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার যে ঘোষণাপত্র তৈরি করেন তা গণমাধ্যমে অনেকেই পাঠ করেছেন। চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের এই ঘোষণার সঙ্গে একজন সেনা কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট করার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মেজর জিয়া পর দিন কেবল তাকে অনুসরণ করে।


মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জিয়াউর রহমানকে ‘হিরো’ বানানোর চেষ্টা করলেও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে তিনি নিজেকে ইতিহাসের একজন খলনায়ক বানিয়েছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *