পত্নীতলায় এলজিডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ৭টি স্কুলের পুরাতন ভবন অপসারণ নিলামে অনিয়মের অভিযোগ

ক্রাইম রিপোর্ট

নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর পত্নীতলায় ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন অপসারণ
নিলামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার
বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিডি) ও ঠিকাদারের যোগসাজসে ১০ লাখ
টাকার মালামাল গোপনে মাত্র ২ লাখ ৯৯হাজার ২শ’ টাকায় বিক্রি হয় বলে অভিযোগ
উঠেছে।
পুরাতন ভবন অপসারণ নিলামের বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় ঠিকাদাররা উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারীরা হলেন, উপজেলার নজিপুর পৌর আ’লীগের সভপতি শহিদুল আলম
বেন্টু, উপজেলা আ’লীগের সদস্য আবুল কালাম আজাদ অরুন। গত ২৭ অগাস্ট
তাঁরা এই অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আড়াইল, চকশ্রীপুর, চকমূলী, বরইল, দিবর,
গাহন ও পলিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন অপসারণের জন্য
প্রকাশ্যে নিলাম আহবান করা হয়। কোন প্রাচার-প্রচারণা ছাড়াই স্থানীয় সরকার
বিভাগের পতœীতলা উপজেলা প্রকৌশলী সৈকত দাশ মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে
৭টি স্কুলে পুরাতন ভবন অপসারণ ও মালামাল স্থানীয় ঠিকাদার উপজেলা আওয়ামী
যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মজিদ, তার ছেলে মামুন, তার সহযোগী মফিজুলকে
দেয়া হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় ঠিকাদার শহিদুল আলম বেন্টু, আবুল কালাম আজাদ
ঠিকাদার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন।
শহিদুল আলম বেন্টু ও আবুল কালাম আজাদ অরুন বলেন, উপজেলার ৭টি সরকারি
স্কুলের পুরাতন ভবনের অপসারণের ওপেন নিলাম আগাম প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই
গোপনে ১০ লাখ টাকার মালামাল গোপনে মাত্র ২ লাখ ৯৯হাজার ২শ’ টাকায় বিক্রয়ের
নিলাম ডাক সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকৌশলী মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা
নিয়ে আব্দুল মজিদ, তার ছেলে মামুন, তার দুই সহযোগী মফিজুল ও আনেয়ারকে
দেন।
ঠিকাদার আব্দুল মজিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু দালাল কাজ না পেয়ে
বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে বেরাচ্ছেন। নিলামে কোন অনিয়ম হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী
কার্যালয়েই নিলামের ডাক হয়েছে। আমি নিলামের সময় ছিলাম না। ওপেন নিলাম
সম্পন্ন হয়েছে বলে আমার কাছ থেকে সাক্ষর নিয়েছে। কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে
ইঞ্জিনিয়ার এ বিষয়ে বলতে পারবেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী প্রকৌশলী সৈকত দাশ বলেন, ৭টি
স্কুলের পুরাতন ভবন অপসারণের নিলাম বাতিল করে পুন:রায় নিলাম দেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) সানজিদা
সুলতানা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *