মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষন সমস্যা জর্জরিত ঢাবির অধিভুক্ত সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ

শিক্ষা


রাহাদ হোসেনঃ গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামাঙ্কিত পুরাতন ঢাকার সরকারি কলেজটি সমস্যার ভারে আজ ন্যুব্জপ্রায়। ভাওয়াল এস্টেটের নলগোলায় কলেজটি স্থাপিত হয় ১৯৪৯ সালের নভেম্বরে। পরে স্থানান্তরিত হয় পুরাতন ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে এই মহাবিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে যুক্ত হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নাম। পাকিস্তান আমলে দেশের বেশিরভাগ কলেজই ছিল উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত। যে সব কলেজে স্নাতক ছিল, সেইগুলি ডিগ্রি কলেজ বলিয়া পরিচিতি পাইত। ১৯৮৪ সালে সোহরাওয়ার্দী কলেজটিকে সরকারিকরণের পাশাপাশি এইখানে চালু করা হয় ১৭টি বিষয়ে অনার্স কোর্স। আর ১১টি বিষয়ে চালু হয় মাস্টার্স। উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক কোর্স তো চালু ছিল আগে হইতেই। এইখানে শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যাপক প্রসার ঘটিলেও গড়িয়া তোলা হয় নাই প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো।এছাড়া পাঠ্য কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থী সংখ্যার বিবেচনায় রমরমা অবস্থা এই মহাবিদ্যালয়টির। কিন্তু বাস্তবে তাহার দৈন্যের শেষ নাই। জোড়াতালি দিয়া চলিতেছে।ভবনগুলো খুবই পুরাতন।যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরেজমিনে দেখা যায়, সব মিলিয়ে এই কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮ হাজার ১৯৯ জন। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার জন্য কম করিয়া হইলেও শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন একশতটির। আছে মাত্র ২৪টি। তাহাও আবার সবগুলি সুপরিসর নহে। লাইব্রেরি আছে, বইও নাকি আছে। তবে বসিয়া পড়িবার জায়গা নাই । গুদামে বই রাখা যায় বটে। তাই বলিয়া উহাকে গ্রন্থাগার বলা যাইতে পারে না। সরকারি এই মহাবিদ্যালয়ে না আছে মাঠ, আর না আছে খাবার ক্যান্টিন, সেমিনার কক্ষ। আঠারো সহস্র শিক্ষার্থীর একসাথে চিড়াচ্যাপটা হইয়া এইখানে দাঁড়াইবার জায়গাও হইবে কিনা, সন্দেহ ঘোরতর। তবে রক্ষা, সকল শিক্ষার্থী নিয়ম মানিয়া কলেজে উপস্থিত হন না। সকলের ক্লাসও অবশ্য একই সময়ে হইবার কথা নয়। বিষয় ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুপাতে এইখানে শিক্ষক থাকিবার কথা ৭২ জন। এই জায়গাটায় জোড়াতালি দিয়া ভারি একখানা ধাঁধা যে তৈয়ার করা হইয়াছে, তাহা সবিশেষ উল্লেখ্য বটে। কোনো না কোনো পর্যায়ে অনিয়ম যে হইতেছে তাহা অনুমান করা কঠিন নহে। বিদ্যমান অবস্থায় এই শিক্ষায়তনের অবকাঠামো উন্নয়ন ও  সম্প্রসারণ জরুরি।ছাত্র সংসদের ও অবস্থা বেহাল। এছাড়া ঢাবির অধিভুক্ত করার পর থেকে তীব্র সেশনজটের কারণে পরীক্ষার  মান ও খুব খারাপ এইচএসসি, ডিগ্রী, অনার্স,মাস্টার্স এর শিক্ষার্থীদের।যা সুনামধন্য এই কলেজটির কাছ থেকে এই কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীরা মেনে নিতে পারছেনা। তাদের সাথে একান্ত সাক্ষাতে প্রতিবেদককে বলেন, আমরা এর দ্রূত সমাধান চাই। বহুতল বিশিষ্ট ভবন করিয়া শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি, সেমিনার রুম,খাবার ক্যান্টিন  ইত্যাদি সমস্যার সমাধান করা যাইতে পারে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সমস্যা সমাধানে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইবে—ইহাই প্রত্যাশিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *