ধামরাইয়ে ব্যাংকের পিয়নের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ক্রাইম রিপোর্ট

শাহাদাৎ হোসেন   ধামরাই পৌরসভার মলয়ঘাট মহল্লার মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে আরফান আলী ডাচ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিব সোসাইটির সাধারণ সদস্যদের সঞ্চয়ের টাকা আত্নসাৎ করে হলে অভিযোগ পাওয়া গেছে,অনুসন্ধানে জানা যায় এস এস সি পাশ আরফান আলী ২০০৬ সালে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ধামরাই শাখায় চাকরি নেন মাষ্টার রুলে পিয়ন বা পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে।পরে ২০১০ সালে তার এক অফিসারের বুদ্ধিতে এলাকার বন্ধু শরিফুল ইসলাম কে সভাপতি করে নিজে সেক্রেটারি হয়ে ডাস মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিব সোসাইটি নামে একটি সংস্থার রেজিষ্ট্রেশন নেন ধামরাই সমাজ সেবা অফিস থেকে,আরফান কৌশলতা অবলম্বন করে তাঁর নিজ ব্যাংকে একটি যৌথ একাউন্ট খোলে,শুরু হয় টাকা আত্মসাতের পালা,পাঁচ বছরের মধ্যে সমিতির টাকা দিয়ে নিজ নামে গড়তে থাকে অর্থ সম্পদ,পরে ঘটনা ফাস হয়ে গেলে সেক্রেটারি পদ থেকে সরে গিয়ে চাকরি পার্মেন্ট করে বদলি হয়ে যায় সাভার শাখায়,তখন তার বেতন ছিলো চৌদ্দ হাজার টাকা,আরফান তার বৃদ্ধ বাবার নামে (ভিপি কেস নং ২৫০/৬৮) লিজকাটা  বাড়িতে বসবাস করে জন্মের পর থেকেই, আরফানের বাবা তার পৈতৃক বা নিজস্ব কোনো সম্পদ রেখে যায়নি,অথচ আরফান আলী পাচ বছরের মধ্যে ধামরাই পৌরসভা সহ আশপাশের এলাকায় নিজ নামে অসংখ্য প্লট ফ্ল্যাট কিনেন।সমিতির সদস্য আওলাদ বলেন,চান্দু মিয়ার ছেলে এতো টাকা পাইলো কোথায়,সে রাতারাতি এতো ফ্ল্যাট প্লটের মালিক হয়ে গেলো,সে অবশ্যই আমাদের সমিতির টাকা আত্নসাৎ করেছে,এখন আমরা লোন চাইলে লোন দেয়না আর কয় আমি সমিতিতে নাই।সে তো করে সামান্য একটা পিয়নের চাকরি,সম্পদের খোজ নিয়ে জানা যায় আরফান আলীর নিজ নামে নামজারী করা (০১)শিয়ালতারা মৌজায়  ০৪.০০ শতাংশ যার নামজারি কেস নং ৪২৮/১৫-১৬,তারিখ ২৮/০৯/১৫, (০২)কেলিয়া মৌজায় ১০ শতাংশ যাহার নামজারি কেস নং ৩০৪৪/১৫-১৬ তাং ০১/০৩/১৫, (০৩) শরীফভাগ মৌজায় .০৫০০ শতাংশ যাহার নামজারি কেস নং ২১৪০/১৪-১৫, তাং ০১/০৩/১৫, (০৪) শিয়াল তারা মৌজায়.০৩৯৫ শতাংশ যাহার নামজারি কেস নং ২১৩৯/১৪-১৫ ,(০৫) পৌরসভার মীনা নগরে ধামরাই মৌজায় .০৪০০ শতাংশ যাহার নামজারি কেস নং ১৩৬৮/১৬-১৭ , তাং১৬/০৪/১৭, (০৬) মীনানগর ধামরাই মৌজায় .০২৫০০শতাংশের নামজারি কেস নং ১৩০/১৮-১৯,তাং ১৪/০৮/১৮ (০৭) সবশেষ গোয়ারিপাড়ায় রোমানা পারভীনের পাচতলা ফাউন্ডেশনের বিল্ডিং এর নিচতলার ফ্ল্যাটটি ক্রয় করেন যেখানে আরফান বসবাস করেন ও আশুলিয়া থানার গকুলনগর গ্রামের হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী শিউলি আক্তারের নিকট থেকে ৩শতাংশের কথা বলে কৌশলে ১১শতাংশ জমি নিজ নামে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি নেন।এ বিষয়ে আরফান আলীর সাথে কথা বল্লে তিনি জানান আমার মাত্র ১৩,০০০,০০, তের লক্ষ টাকার সম্পদ আছে,এর বেশি যদি কেউ বলে থাকে তাহলে সে আমাকে হেয় পতিপন্য করার চেষ্টা করছে,সমিতির সভাপতি শরীফুল ইসলাম বলেন আরফান পিয়নের চাকরী করে ওর হাতে প্রচুর সময় আছে ও আমাকে ফসলাইয়া সমিতির সভাপতি বানাইছে ও নিজেই সদস্যদের লোন ডিজভাস করতো,আমারে বলতো অমুক কে লোন দিবো এখানে স্বাক্ষর কর আমি স্বরল বিশ্বাসে স্বাক্ষর করতাম,শরিফবাগ মৌজার জমি ও কেলিয়া মৌজার জমি আমরা দুইজনে এক সাথে দামা দামি করে টাকা লেনদেন করেছি সবই সমিতির টাকা,অথচ পরে দেখি দুইটা  জমিই ওর নিজ নামে রেজিষ্ট্রি করেছে।দুই বছর আগে আমারে কয় আমি সমিতিতে থাকবো না,আমার বদলি হয়ে গেছে।২০১৪ সালে আমি একটা চেকের পাতা জমা দিয়ে সমিতি হতে দুই লাখ টাকা লোন নিছিলাম এখন দেখি সেই চেকে  ৪০,০০০০০ চল্লিশ লাখ টাকা বসিয়ে আমার নামে চেক ডিজওনার মামলা দিয়েছে,পরে আমি সমিতির হিসাব করে দেখি ৮৩,০০০০০ ত্রিরাশি লাখ টাকা গরমিল,এ বিষয়ে আমি ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করে রেখেছি। এ বিষয়ে কমার্স ব্যাংক ধামরাই শাখার ম্যানেজারের সাথে কথা বল্লে তিনি বলেন আরফান আলী আমার শাখায় একজন পরিছন্ন কর্মী বা পিয়ন হিসেবে কাজ করতো ,এখন সে সাভার ব্রাঞ্চে আছে এর বেশি আমি কিছুই জানিনা।

ReplyForward

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *