আশুলিয়ায় থ্রি হুইলার পরিবহনে ব্যপক চাঁদাবাজি প্রশাসন নিরব

ক্রাইম রিপোর্ট

শাহাদাৎ হোসেন আশুলিয়া    ঢাকার শিল্পাঞ্চলের ব্যস্ততম সড়ক ও হাইওয়ে রোড এবং বিভিন্ন সড়কে তিন চাকা মাহিন্দ্রা, অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে দালাল কর্তৃক ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। নামে বে-নামে একটি চক্র নতুন নতুন কৌশলে মাসিক মানফি (কথিত মানতি) সিস্টেমে প্রতিদিন ও প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়া হয় বলে চালকরা জানান।জানা গেছে, ঢাকা জেলার সাভার ও আশুলিয়ার বিশমাইল, নবীনগর, নয়ারহাট, বাইপাইল, (ভাদাইল মোড়) শ্রীপুর, জিরানী, অন্যদিকে জামগড়া, ছয়তালা, নরসিংহপুর, জিরাবো, পুরাতন আশুলিয়াসহ বিভিন্ন স্পট থেকে স্থানীয় জিয়া ওরফে কালো জিয়া, মানিক, মেহেদীসহ ৭-৮জন লাইনম্যান সাভার ট্রাফিক জোন এলাকায় নতুন কৌশলে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে বিভিন্ন সুত্র জানায়, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে লাইনম্যান বদলে দেওয়া হয়, লাইনম্যান ও দালালের মাধ্যমে প্রতিটি মাহিন্দ্রা থেকে প্রতিদিন ১৫০ টাকা চাঁদা নেয়া হয়। মাহিন্দ্রা গাড়ি চালক মোঃ সাদ্দাম মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, উক্ত ৭-৮জন দালাল প্রতিটি মাহিন্দ্রার চালকের কাছ থেকে প্রতিদিন ১৫০ টাকাচাাঁদা নিচ্ছে, আর এসব কথা কাউকে না বলার জন্য চালকদেরকে ভয় দেখায় বলে তারা জানায়।
চালকরা বলেন, নতুন নতুন কৌশলে পরিবহনে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি, এ যেন দেখার কেউ নেই। কিছুদিন আগে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় চলাচলরত অটোরিকশা থেকে টোকেনের মাধ্যমে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ উঠে আশুলিয়া থানা যুবলীগের বিরুদ্ধে, কিন্তু চাঁদা আদায় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এরপরআশুলিয়া থানা যুবলীগের আহবায়ক কবির হোসেন সরকার বলেন, যুবলীগের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজ নয়, আর যারা যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা আদায় করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে কবির সরকার গণমাধ্যম কর্মীদেরকে বলেন, যুবলীগ বা আমার জনপ্রিয়তাকে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল আমার রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য বদনাম করার চেষ্টা করছে। এই চাঁদাবাজ চক্রটি দলীয় কোনো নেতা কর্মী নয়।
কবির সরকার আরও বলেন, আমি গণমাধ্যমকর্মী ভাইদের আহবান জানাই যে, আপনারা অনুসন্ধান করে সঠিকভাবে সত্য প্রতিবেদন প্রকাশ করুন।ঢাকা জেলা ট্রাফিক বিভাগের সাভার জোন এলাকার বিশমাইল, নবীনগর, নয়ারহাট, বাইপাইল, শ্রীপুর, ভাদাইল মোড়, জামগড়া, নরসিংহপুর, জিরাবো ও পুরাতন আশুলিয়াসহ বিভিন্ন স্পট থেকে প্রতিদিন ও মাসিক সিস্টেমে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয় বলে বিভিন্ন যানবাহনের চালক জানায়, অনেকেই বলেন, নতুন নতুন কৌশলে চাঁদা আদায় করছে কিছু অসাধু পুলিশের দালাল চক্রের লাইনম্যান। কিছু পুলিশ অফিসার ও রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে এসব এলাকায় চাঁদাবাজি চলছে। লাইসেন্সবিহীন অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি দেখা যায় ভিন্ন, রোডে যখন কোনো পুলিশ সদস্য যানবাহনের কাগজপত্র চায় তখন বেশিরভাগ গাড়ির চালক বলেন, মানতি আছে, আর যার কাছে মাসিক চাঁদা দেয়া হয়,ওই চালক-তাকে মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিয়ে থাকে। যারা প্রকৃত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সবার।এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার শ্রীপুরের স্থানীয় প্রভাবশালী বাবুল নামের এক ব্যক্তির ৩-৪ জন লাইনম্যান রেখে তাদের দিয়ে টাকা কালেকশন করায়, তা প্রতিদিন ৫-৭ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে বলে তারা জানান, এ বিষয়ে বাবুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওরা মিথ্যা কথা বলছে, শ্রীপুরে ড্রাইভারদের কোনো সমস্যা হলে আমি দেখি বলে ফোন বন্ধ করেন।উক্ত ব্যাপারে ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের সাভার জোন (টিআই, প্রশাসন) মোঃ আবুল হোসেন এ প্রতিনিধিকে বলেন, নরসিংহপুর আমাদের পুলিশ ডিউটি করেন না, তিন চাকা অটোরিকশা, বা মাহিন্দ্রা এবং লাইসেন্সবিহীন কোনো যানবাহন চলবে না রোডে, আর চাঁদাবাজ সে যেই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর জিয়া নামেরওই চাঁদাবাজের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি দেখবো।
উক্ত বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)সহ উপর মহলের পুলিশ কর্মকর্তাগণ বলেন, এসব তিন চাকা যানবাহনের মালিক ও চালকদেও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাইওয়ে রোড দখল করে রেখেছে শ্রীপুর এলাকার প্রায় ২০০ মাহিন্দ্রা ও বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন কিন্তু পুলিশ একদিকে সরিয়ে দেয় অন্যদিকে আবার হাইওয়ে রোডে উঠেপড়ে। জনগণের প্রশ্ন কিছু পুলিশ সদস্য ও নব্য আওয়ামীলীগ, যুবলীগের নেতা কর্মীরা সরকারের সুনাম নষ্ট করতে দালাল কর্তৃক চাঁদা আদায় করে, সরকারতো সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করেছেন, তবুও কেন চাঁদাবাজি করেন তারা? বর্তমান সরকার পুলিশের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করে কি লাভ হলো? পুলিশই যদি অপরাধ করেন, তাহলে অপরাধীরা আইনের ফাঁক দিয়ে বেঁচে যাবে বলে অনেকেরই অভিমত, তাই উক্ত ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল। এ প্রতিবেদন ধারাবাহিকভাবে চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *