গণমাধ্যম কর্মী ও শিক্ষকসহ মধ্যবিত্তদের মানবেতর জীবনযাপন-হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘন

জাতীয়

হেলাল শেখ ঃ চলমান একের ভেতরে চার-গণমাধ্যম কর্মী ও শিক্ষক শ্রমিকসহ মধ্যবিত্তরা চাপে রয়েছেন। চাল-তেলসহ নিত্যপণ্যের বাজারের ঊর্ধ্বগতি মানুষের মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা, হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘন, মানুষ এখন সঠিক বিচার পাবে কোথায?। দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে গণমাধ্যম কর্মী ও শিক্ষকসহ অনেকেরই অনাহারে অর্ধাহারে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৩টি দেশে লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়ে অকালে মারা যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ছোট একটি রাষ্ট্র, এই করোনার ভয়ানক পরিস্থিতি প্রায় ১০ বছর পিছিয়ে পড়েছেন জাতি। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’কে ধন্যবাদ জানাই যে, তিনি সকল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। দুঃখের বিষয়, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্য চলছে। নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সরকারের বদনাম হয়। ২০২১ ইং সালে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে প্রতি লিটার প্রায় ৫০ টাকা।
এ বিষয়ে শ্রী সরজিৎ কুমার সরকার বলেন, আমি একটি পোশাক কারখানায় ১৬ বছর চাকরি করার পর মালিক পক্ষ আমাকে অন্যায় ভাবে বাধ্য করে চাকরি থেকে বাদ দিয়েছে। দেড় বছর ধরে করোনার কারণে আমার চাকরি নেই, কোথাও চাকরি পাইনি। ১৬ বছরের পাওনা টাকাও মালিক দেননি। তিনি বলেন, দেশের মানুষের ব্যবসা বাণিজ্য ভালো না। এমন কি আপনাদের গণমাধ্যম- অনেক পত্রিকা’র প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে। অনেক অনলাইন পোর্টালসহ আরও অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর কারণে গণমাধ্যম কর্মীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। করোনার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে অনেক বে-সরকারি শিক্ষক বেকার হয়েছেন। ছোট বড় অনেক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। বেশিরভাগ কারখানায় কাজ কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের কাজ না থাকায় আমার মতো অনেকেরই চাকরি নেই। সবকিছু মিলিয়ে কৃষক শ্রমিক, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ মধ্যবিত্তরা আমরা চাপের মধ্যে আছি বলে তিনি জানান।
শনিবার (১৬ অক্টোবর ২০২১ইং) দুপুরে একটি স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ইসরাত জাহান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর খোলা হয়েছে কিন্তু বাসা ভাড়া, বাজার খরচ, দোকান বাকি, ওষুধসহ দেড় বছরে দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে, সরকার বা জনপ্রতিনিধি কেউ কোনো সাহায্য সহযোগিতা করেননি। সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, যেমনঃ সয়াবিন তেল প্রতি লিটারে ৫০ টাকা বাড়ছে। প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও বে-সরকারি শিক্ষকদের বেতন বাড়েনি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর কিন্তু সেই শিক্ষকরাই এখন দিনে একবার খেয়ে, না খেয়ে, অনাহারে এবং অর্ধাহারে জীবন যাপন করছেন। কেউ কি শিক্ষকদের পরিবারের খবর নিয়েছেন, না। তিনি আরও বলেন, আপনারা গণমাধ্যম কর্মী-সাংবাদিক দেশ ও জাতির বিবেক, কিন্তু আপনারা খেয়ে আছেন না কি-না খেয়ে আছেন? এই খবর কি কেউ নিয়েছেন। আপনারা যে, নেতা বা জনপ্রতিনিধির সংবাদ প্রকাশ করেন, তারা কি আপনাদের কোনো সময় ডেকে একবেলা খাবার খাওয়ায়? বা কিছু টাকা দিয়ে বলেছেন যে, বাজার খরচ করেন, তা করেননি, আপনাদের ছোট একটা ভুল হলে হামলা, মামলার শিকার হতে হয় আপনাদের।
উক্ত বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’র ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ) বলেন, ছোটরা বড়দের সম্মান করছে না, মানুষ হয়ে মানুষকে হত্যা করছে। ত্যাগী নেতারা বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বড় নেতা ও জনপ্রতিনিধি’র কাছে জনগণের চাওয়া পাওয়া অনেক কিছুই থাকতে পারে কিন্তু লোক দেখানো আর চাঁপাবাজি ও চাঁদাবাজি করা ফেসবুক নেতাদের মুখের কথার কোনো দাম আছে কি? নেই। বাজারে চাল-তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন বে-সরকারি শিক্ষক, সাংবাদিক ও শ্রমিকসহ মধ্যবিত্তরা, পুরোপুরিভাবে এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এই ঊর্ধ্বগতি যেন, মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।
শুক্রবার ছটির দিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকার আশুলিয়ায় বিভিন্ন হাট-বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিত্যপণ্যের দোকানে ক্রেতা সাধারণের চরম ভিড়। গত তি মাসে সয়াবিন তেল প্রতি লিটারে ৫০ টাকা বাড়ানো নিয়ে দোকানদার বিক্রেতা ও ক্রেতাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হতে দেখা যায়। এরমক ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বিভিন্ন হাট-বাজারে। একদিকে মানুষের কাজ কর্ম নেই বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়া। অন্যদিকে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন ভাবে বাড়ছে। সেই সাথে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে বে-সরকারি শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী ও পোশাক শ্রমিকদের অভিযোগ তাদের আয়ের চেয়ে ব্যয়-খরচ বাড়ছে, মানুষ হয়ে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি করছে, এটা কি মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে না?। তারা বলেন, কোথায় মানবাধিকার সংস্থা? কোথায় মানবতা? কোথায় পাবে সঠিক বিচার ?। সবাই অর্থ ও স্বার্থের পিছনে জীবন যুদ্ধো করছেন। আমরা মানুষ মৃত্যুতে বিশ্বাসী, তাহলে আমাদের কিসের এতো অহংকার ? একের ভেতরে চার এর বেশি সমস্যা এখন মানুষের, আগে নিত্যপণ্যের দাম কমাতে হবে, বেকারদেরকে কাজ দেওয়াসহ মাদক সন্ত্রাস দমন করতে হবে। সবার দাবি-সরকার চাইলে এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। এসব সমস্যা সমাধান হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের হাত থেকে মানুষ বাঁচবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *