লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, আয় তো বাড়ছে না!

জাতীয়

চট্টগ্রাম ব্যুরোচীফ মোঃসফর আলী 
নিত্য পণ্যের দাম বাড়ছে, আয় তো বাড়ছে না!       বাজারে লাগামহীন নিত্যপণ্যের দাম। দিনের ব্যবধানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। শুল্ক বৃদ্ধি, যাতায়াত খরচ বৃদ্ধিসহ নানান অজুহাতে দাম বাড়ছে চাল, ডাল চিনিসহ সব নিত্যপণ্যের দাম। এর ফলে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষরা বাজার করতে এসে হিমশিম খাচ্ছেন। কিন্তু দিনের পর দিন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কি কারণ সেই তথ্য নেই। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, মজুতদার ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মানভেদে আতপ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে শুরু করে ৬৮ টাকায়। সিদ্ধ চালের দামও বেড়েছে সমানতালে। পারি সিদ্ধ চাল ৫০ থেকে ৫২, জিরা শাইল ৬০ টাকা, হাফ সিদ্ধ নাজির শাইল ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা, আতপ পাইজাম ৬০ টাকা থেকে ৬২ টাকা, মিনিকেট ৫২ টাকা থেকে ৫৫ টাকা, কাটারি সিদ্ধ ৯২ টাকা থেকে ৯৪ টাকা, কাটারি ৬২ টাকা থেকে ৭৫ টাকা, চিনিগগুড়া ৮৮ টাকা থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মসুরের ডাল চিকন ৯০ টাকা, মোটা ১১০ টাকা, চনার ডাল ৭৫ টাকা, মোটরের ডাল ৪৫ টাকা, চিনি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, আটা ৩৮ থেকে ৪২ টাকা, ময়দা ৪৮ থেকে ৫২ টাকা, পিঁয়াজ ৫৫ টাকা, রসুন ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু চাল-ডাল নয় সব ভোগ্যপণ্যের দাম মাসের ব্যবধানে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। নিত্যপণ্যের এমন দাম বৃদ্ধিতে স্বল্প আয়ের মানুষদের দোটানায় পড়তে হচ্ছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারে বাজার করতে আসা গৃহিণী শিউলি আক্তার বলেন, দাম বাড়ছে ঠিকই আয় তো বাড়ছে না, আমাদের মতো প্রবাসী আয়ের উপর নির্ভর করা পরিবারগুলো অবস্থা এখন বেহাল। একটা কিনলে আরেকটা কিনতে পারিনা।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে দেশের বাজারেও লিটারে সাত টাকা বাড়ানো হয়েছে।  প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬০ টাকা দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যা আগের দর ছিল ১৫৩ টাকা। নতুন দামে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল মিলগেটে দাম ১৩৪ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১৩৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ১৩৬ টাকা। বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল মিলগেটে ১৫০ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১৫৪ টাকা ও খুচরা পর্যায়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল মিলগেটে ৭২০ টাকা, পরিবেশক মূল্য ৭৪০ টাকা ও খুচরা পর্যায়ে ৭৬০ টাকা। আর পাম তেল প্রতি লিটার মিলগেটে ১১৬ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১১৭ ও খুচরা পর্যায়ে ১১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ দাম পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ে পুরোনো মজুতকৃত তেলের ওপর কার্যকর হবে না।
বাজার করতে আসা আবুল ফজল বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে যেভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, চাহিদা সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছি। আগে ৮ লিটার তেল নিলে এখন ৫ লিটার দিয়েই চালাচ্ছি।
দেশের মোট চাহিদার ৯৫ শতাংশ ভোজ্য তেল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ২০২০ সালের পর থেকে ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির জন্য দেশে কয়েক দফায় সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলসহ সব পণ্যের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে কথা হয় কয়েকজন বিক্রেতাদের সাথে। তারা অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন মজুতদার আর পাইকারদের দিকে। রিয়াজউদ্দিন বাজারে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, নিত্যপণ্য সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে তা ঠিক, কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই। মজুতদাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে, বিভিন্ন চার্জ বৃদ্ধির অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা, বাধ্য হয়ে আমাদেরকেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
কাজীর দেউড়ি ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক মো. ঈসমাইল হোসেন বলেন, সরকার যদি পণ্যের সঠিক চাহিদা নির্ধারণ করে আমদানি বাড়ায় তাহলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসতে পারে। বাজার মনিটারিং নেই বললেই চলে। বাজার মনিটারিংয়ের মাধ্যমে মজুতদারদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে চাহিদা ও সরবরাহ সমানতালে চলবে। আশা করা যায় এভাবে পণ্যের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে থাকবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *