নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলায় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর

জাতীয়

হেলাল শেখঃ সারাদেশে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে, সেই সাথে সন্ত্রাসী হামলায় (খুন) নিহত ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের বিদ্্েরাহী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ঢালীর নেতৃত্বে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসে অতর্কিত হামলা-ভাঙচুর, বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ছবি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আলোকবালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার সময় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার কায়েতপাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর উঠান বৈঠকের সময় সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৩০ জন আহত এবং ধামরাইয়ে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৬ নভেম্বর ২০২১ইং) জানা গেছে, গত (৫ নভেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সন্ত্রাসী হামলায় শরীয়তপুরের সুবচনী বাজারে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম ঢালী গুরুতর আহত হন। এসময় আওয়ামী লীগের প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে তারা জানান। আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম ঢালী বলেন, হামলার সময় হামলাকারীরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করে, এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ছবিটিও ভাঙচুর করার কথা জানান। অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী হাবিবুর রহমানের বক্তব্যের জন্য তার সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। দোষীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর ২০২১ইং) নরসিংদীর আলোকবালী ইউনিয়নের নেকজান গ্রামে সকালে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়েছেন বলে নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সওগাতুল আলম উক্ত হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, আলোকবালী ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু’র সমর্থক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাদুল্লাহ’র সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ (তিন)জন নিহত হন। এ ছাড়া ৯জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে এলাকাবাসী জানায়। নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সওগাতুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সদর হাসপাতালে তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।
জানা গেছে, রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানের উঠান বৈঠকে নৌকা প্রার্থীর সমর্থন ছেলেদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। গত (৩১ অক্টোবর ২০২১ইং) বিকেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মিজানুর রহমান মিজান কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও এলাকায় আবুল বাশার টুকুর বাড়িতে উঠান বৈঠকে যোগদেন তিনি আর এই উঠান বৈঠক শুরুর পরপরই নৌকা সমর্থকরা জয় বাংলা ¯েøাগান দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের উপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা ১০-১২টি গাড়ি ভাংচুর করে এবং বেপরোয়া ভাবে ৩০ জন কর্মীকে পিটিয়ে আহত করে। এরপর আহতদেরকে দ্রæত উদ্ধার করে বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে তাদেরকে চিকিৎসা করানো হয়। এ বিষয়ে মিজানুর রহমান মিজান গণমাধ্যমকে বলেন, আমার জনপ্রিয়তা দেখে জাবেদ আলীর নির্দশে তার ছেলেদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা মিছিলে অভিরত বাঁধা দিচ্ছে, প্রচার মাইক ছিনতাই করছে, পোস্টার ছিড়ছে, গাড়ি ভাংচুর করছে, বাড়ি গিড়ে হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আচরণ বিধি ভেঙ্গে এসব সন্ত্রাসী অবৈধভাবে কার্যক্রম করে আমার জয়কে আটকাতে পারবে না বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে ঢাকা জেলার ধামরাইয়ে ইউপি নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রæপের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। গত শনিবার রাতে ধামরাই উপজেলার সুয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী কফিল উদ্দিন ও বিদ্রোহী প্রার্থী হাফিজুর রহমান সোহরাব এর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। থামরাই থানা পুলিশ জানায়, ওইদিন রাতে চেয়ারম্যান প্রার্থী দুই গ্রæপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, এসময় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে উদ্ধার করে সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় বলে এলাকাবাসী জানায়।
অন্যদিকে ঢাকা জেলা উপজেলার আশুলিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের প্রচারণা তুঙ্গে। দেখা যায়, প্রার্থী ও সমর্থনকারীরা এলাকার পাড়া মহল্লায় গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার লাগাচ্ছেন এবং মানুষের কাছে দোয়া চাচ্ছেন। সেই সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে গ্রæপিং হওয়ায় এলাকার নেতাকর্মীদের মধ্যে বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।কিছু ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটি হলেও তা নিয়ে পাল্টা পাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের তয় বার নৌকা মার্কা পেয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ শাহিন চৌধুরীসহ একাধিক প্রার্থীর এলাকায় কোনো হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। আগামী (১১ নভেম্বর ২০২১ইং) পাবনার সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়ন ও নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জসহ যেসকল এলাকায় ভোট গ্রহণ হবে, সেইসকল এলাকায় বিশেষ ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করার অনুরোধ জানান অনেকেই।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এবং থানা ও ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে নানারকম জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে, সেই সাথে ইউপি নির্বাচন চলমান।এ ব্যাপারেও গ্রæপিং হচ্ছে বলে সূত্র জানায়। উক্ত ব্যাপারে দেশ ও জাতির স্বার্থে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *