আওয়ামীলীগ থেকে আজীবন বহিস্কার মেয়র জাহাঙ্গীর করছেন অস্তিত্বের লড়াই

সারাদেশ

হেলাল শেখঃ রাজনৈতিক মাঠে চলছে খেলা। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে আজীবন বহিস্কার করার পর থেকে তার সম্মান ও অস্তিত্বের লড়াই এবং চলমান এই ঘটনার রহস্য কি? এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলছেন না, তিনি কতোটা বড় অপরাধ করেছেন, তা নিয়ে চলছে অনুসন্ধান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে আলোচনার শীর্ষে এখন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে যে, জাহাঙ্গীর আলমের মেয়র পদ নিয়ে কি হবে? গোয়েন্দা তদন্ত চলছে।
রবিবার (২২ নভেম্বর ২০২১ইং) সকালে সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ৭মে ১৯৭৯ সালে গাজীপুরের রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। গাজীপুরের মোঃ মিজানুর রহমান ও মোসাঃ জায়েদা খাতুনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম। তিনি গ্রামেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষার হাতে খরি এবং চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাস করেন। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে এলএলবি এবং ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজ থেকে ¯œাতক ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটুক্তি করার দায়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে আজীবন বহিস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই বৈঠকে মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর অনেক নাটকীয় ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যম মিডিয়ার সামনে অঝোরে কাঁদছেন গাজীপুরের আলোচিত সিটি মেয়র এই জাহাঙ্গীর আলম। অনেকেই অভিমত প্রকাশ করছেন যে, তিনি কি অভিনয় করে কাঁদছেন? না কি অপমানিত হয়ে কষ্টে কাঁদছেন? অনেকেই বলেন, এই জাহাঙ্গীর আলম মেয়র হওয়ার পর শিক্ষক ও গণমাধ্যম কর্মীদের অনেকের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন, এমনকি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলতেন না। অনেকেই জানতে চায় যে, উক্ত ঘটনার রহস্য কি? আসলে এই ঘটনার আড়ালে অন্য কোনো ঘটনা আছে কি না, তা সঠিকভাবে তদন্তের দাবি জানান সচেতন মহল।
বিশেষ করে মেয়রের পরিবারের সদস্যদের দাবি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে রেকর্ডসংখ্যক ভোটে নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে গাজীপুর মহানগর প্রতিষ্ঠার পর জনপ্রিয়তার কারণে তাকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়। জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান তিনি। গাজীপুর মহানগরে ৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আজীবন দাতা সদস্য ও গাজীপুর মহানগর ইমাম সমিতি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন গাজীপুর মহানগর (৩২টি সংগঠন) এর প্রধান উপষ্টো জাহাঙ্গীর আলম। গাজীপুর জেলা সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তিনি অনারেবল টেক্সটাইল এন্ড কম্পোজিট লিমিটেড এবং জেড আলম অ্যাপারালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে জাহাঙ্গীর আলমের বার্ষিক আয় ছিলো ১কোটি ১৮লাখ ৫ হাজার ৯৫০ টাকা মাত্র। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় ২কোটি ১৬ লাখ ৩৮হাজার টাকা মাত্র। সুত্র জানায়, এর মধ্যে কৃষি খাতে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া ৪লাখ ৩০ হাজার টাকা। তার ব্যবসা থেকে ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ও অপ্রদর্শিত ১ কোটি ১৬ লাখ ৩৮হাজার টাকা মাত্র দেখিয়েছেন তিনি। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ আছে ৭কোটি ৪৮লাখ ৯৬হাজার টাকা। ব্যাংকে দেখানো হয়েছে, তার পুঁজি জমা আছে ১লাখ ৫৫হাজার ৯৭১ টাকা। ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন ৭৫লাখ ২৩হাজার ৭৮৭ টাকা। স য়পত্র আছে ১০লাখ টাকা। এ ছাড়া তাঁর দুটি গাড়ি, একটি বন্দুক ও একটি পিস্তল রয়েছে। জাহাঙ্গীর আলমের স্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে ১হাজার ৫৩৬ শতাংশ জমি। এর মধ্যে কৃষি জমি ১হাজার ৪৯৫ দশমিক ১৫ শতাংশ, অকৃষিজমি ৩৩ দশমিক ৭১শতাংশ। আবাসিক, বাণিজ্যিক জমি ৭দশমিক ৪৩ শতাংশ। জমি বিক্রির জন্য বায়না বাবদ নেওয়া ৮কোটি টাকা লোন হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি।
উক্ত ব্যাপারে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে কান্নাজনিত অবস্থায় বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, আমি দোষী নয়, আমাকে নিয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। আমার বিষয়ে সঠিকভাবে তদন্ত করা হোক বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *