জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সংশোধন করা নিয়ে জনগণের হয়রানির শেষ নেই

জাতীয়

হেলাল শেখঃ বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন ভুল সংশোধন করাসহ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গণ টিকা নিতে জনগণের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। বেশিরভাগ মানুষকে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। জানা গেছে, পাবনার আমিনপুর থানার সাগরকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এরকমই হয়রানির শিকার হয়েছেন।
সারা দেশে সরকার গণটিকা কার্যক্রম চালু করেছে কিন্তু টিকা সিমিত হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ টিকা নিতে গিয়ে ফেরত আসছেন, অনেকেই হয়রানির শিকার হয়েছেন। একটি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করা নিয়ে এক নারী ঢাকা আদালতের সাহায্য সহযোগিতা নিতে হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন নিয়ে সমস্যার কারণে বর্তমানে করোনা টিকা নিতে পারছেন না অনেকেই আর নিবন্ধন করা হলেও এসএমএস আসছে না অনেকেরই। পাবনা জেলার সুজানগরের এক শতবছরের বৃদ্ধ মানুষ জীবিত থাকলেও নথিপত্রে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। তার ভোটার আইডি নং ৭৬১৮ ৩৭৬৩৩৫৫২৬। নাম তার মোঃ লোকমান হোসেন মন্ডল, তিনি সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের গুপিনপুর গ্রামের মৃত উজির মন্ডলের ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল করার কারণে তার বয়স্ক ভাতা ৮মাস ধরে বন্ধ থাকে। এরকম জীবিত মানুষ মৃত, নাম ভুল, বাবার নাম ভুল এবং জন্ম তারিখ ভুলসহ জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন নিয়ে হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীদের সীমাহীন ভোগান্তি।
দেশের প্রতিটি নাগরিকের সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন ভুল সংশোধন করতে গিয়ে বেশিরভাগ জনগণের হয়রানি শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, এটি জাতীয় সমস্যা। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সহজ ভাবে সংশোধন করার দাবি জানান সচেতন মহল। জাতীয় পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) হারিয়ে ফেলেছেন, ফরম/¯িøপ নেই, আইডি নাম্বার মনে নেই, জন্ম তারিখ মনে নেই। ফেস ভেরিফাই হচ্ছে না, এরকম বিভিন্ন সমস্যার কারণে আইডি কার্ড বা জন্ম নিবন্ধন উত্তোলন করতে পারছেন না অনেকেই। এটি জাতীয় সমস্যা। এ নিয়ে সংশোধন করতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে সঠিকভাবে সেবা না পেয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন অনেক নাগরিক।
রাজধানী ঢাকা ও সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার ইয়ারপুর ইউনিয়ন, শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদসহ দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন এর ব্যাপারে জনগণের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কিছু তথ্যঃ এক কপি ছবি যাহার জন্ম নিবন্ধন তাহার। টিকা কার্ড/স্কুলসার্টিফিটেক। মা, বাবার ভোটার আইডি কার্ড এর ফটো কপি। মা, বাবার ডিজিটাল জন্ম সনদ এর ফটো কপি। ০১-০১-২০০১ এর আগে যার জন্ম তাহার মা, বাবার জন্ম সনদ লাগবে না। বিদ্যুৎ বিল ফটো কপি। মোবাইল নাম্বারসহ আরও অনেক কিছু লাগবে শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজে ভর্তির সময়। এরকম পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের কদিম মাল ী এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদে জনগণকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা নানারকম সমস্যার কথা বলে সেবাদানে অনিয়ম দুর্নীতি করছে।
জাতীয় সেবা এখন আপনার হাতের নাগালে। জাতীয় পরিচয়পত্র-সমাধান কেন্দ্র নামের একটি সূত্র জানায়, আমরা সকল কাজে অগ্রিম পেমেন্ট নিয়ে থাকি, সেখানে ৪টি নাম্বার দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে একটি ০১৮১১৭৬২৩৬৯। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন জানান, আইডি কার্ড উত্তোলন, সংশোধন, নিবন্ধন, সকল কাজ খুব দ্রæত সময়ে র্নিভুল ভাবে করার জন্য নির্বাচন কমিশন সবসময় চেষ্টা করে আসছে। মূলতঃ জন্ম নিবন্ধন ও ভোটার আইডি কার্ডটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সম্পত্তি। এই বিষয়ে দায়িত্বে থাকা যদি কেউ অনিয়ম করে আর জনগণের সেবা না দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট উপর মহলের প্রশাসনের দাবী। তবে উক্ত ব্যাপারে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর জনসাধারণের হয়রানি কিছুটা কমেছে। অভিযোগ রয়েছে, যেকোনো ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা নাগরিক এর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। টাকা দিলে সহজেই কাজ হয়, আর টাকা না দিলে সেবা নিতে আসা নাগরিকের নতুন জুতাক্ষয় হয়ে যায়, বার বার হয়রানির শিকার হোন। এ বিষয়ে ধারাবাহিক ভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে।
সরকারকে দোষারোপ করার আগে নিজেরা সচেতন হতে হবে। কিছু অসাধু ব্যক্তি অনিয়ম দুর্নীতি করার কারণে সরকারের বদনাম হয়। অনেকেই বলেন, বর্তমানে চোরে চোরে খালাতো ভাই, সবাই সচেতন হোন আর চোরদেরকে ধরতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগীতা করুন। পাবনার সুজানগর উপজেলার আমিনপুর থানার সাগরকান্দি ইউনিয়নসহ কিছু ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন এলাকার মানুষ জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে বেশিরভাগ নাগরিক হয়রানির শিকার হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সংশোধন ও করোনার টিকা নিতে যাতে জনগণের হয়রানির শিকার না হয়। এ ব্যাপারে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *