ঢাকা জেলা পুলিশের উপর হামলা ও পুলিশ বক্স ভাংচুর করেছে অবৈধ অটোরিক্সা চালক বাহিনী

সারাদেশ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ঢাকার আশুলিয়ার ডিইপিজেড ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ ভেবে ঢাকা জেলা পুলিশের উপর হামলা ও ভাংচুর করেছে অটোবাইক রিক্সা চালক বাহিনীর লোকজন।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ইং) বিকেলে ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন ডিইপিজেড ট্রাফিক পুলিশ বক্সে থাকা (এস আই) মোঃ হেলাল উদ্দীন পিপিএম কর্মরত ছিলেন, এমন সময় একদল অটোরিক্সা চালক বাহিনী কর্তৃক হামলা চালায় তার উপর। অটোরিক্সা চালক হামলাকারীরা বলেছেন যে, প্রায়ই সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ তাদের অটোরিক্সা আটক করে প্রতি গাড়ি থেকে ২৬০০/টাকা নিয়ে নিচ্ছেন আর প্রতি মাসে ২-৩ বার এক গাড়ি ধরেন, এমনই অভিযোগ অটোরিক্সা চালকদের- হাইওয়ে রোডে হাজার হাজার অটোরিক্সা চলে প্রতিটি গাড়ি থেকে পুলিশ ও চাঁদাবাজরা টাকা নিয়ে আবার রেকারের নামে গাড়ি আটক করে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন তারা। নাজমুল নামের এক অটোরিক্সা চালককে আটকের চেষ্টা করেন হেলাল উদ্দীন নামের এক পুলিশ সদস্য আমরা নাজমুল ও তার গাড়ি ছাড়ানোর জন্য চেষ্টা করার সময় পুলিশের হাতে নাজমুল এর কপালে আঘাত লাগে, এ সময় ওই পুলিশ সদস্য নাজমুলকে চিকিৎসার জন্য ৫০০/টাকা দিয়েছেন বলে রিক্সা চালকরা জানায়।
মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ইং) ঢাকা জেলা পুলিশের (এসআই) মোঃ হেলাল উদ্দীন-পিপিএম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার আমার ডিউটি ছিলো আশুলিয়ার ডিইপিজেড এলাকায়, গাড়ির চাপ ছিলো এর কারণে ইজিবাইক অটোরিক্সা হাইওয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি, এ সময় এক অটোরিক্সা চালক আমার পায়ে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমি তার অটোরিক্সা ও তাকে আটক করতে গিয়ে দস্তাদস্তির একপর্যায়ে তার কপালে আঘাত পায়, তার চিকিৎসার জন্য আমি তাকে ৫০০/টাকা দিয়েছি, এ ঘটনা সেখানেই সমাধান হয়েছে কিন্তু কিছু অটোরিক্সা চালক বাহিনী দলবদ্ধভাবে এসে পরিকল্পিত ভাবে তারা পুলিশ বক্স ভাংচুর করে এবং আমার পোশাক ধরে টানাহেছড়া করে আমাকে মারপিট করে। আমি এ বিষয়ে পুলিশের উপর মহলে জানিয়েছি, আমার কোনো দোষ ছিলো না, আমার উপর অন্যায়ভাবে রিক্সা চালক বাহিনীর লোকজন হামলা করেছে, আমি একা ছিলাম তাই আমার উপর এই হামলা করতে সুযোগ পেয়েছে তারা, আর তাদের আক্রোশ ছিলো হাইওয়ে পুলিশের উপর, তাই আমাকে হাইওয়ে পুলিশ ভেবে মারধর করেছে বলে পুলিশ জানায়।
সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশের রেকার ইনচার্জ হাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশের সাথে লাগেনি, এ ঘটনা ঢাকা জেলা পুলিশের এসআই হেলাল উদ্দীনের সাথে ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে আমরা অভিযান চালিয়ে অটোরিক্সাসহ অবৈধ গাড়ি আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি, কোনোভাবেই হাইওয়ে রোডে ইজিবাইক বা অটোরিক্সা চলবে না বলেও তিনি দাবী করেন।
সাভার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আজিজুল হক আজিজ এর কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশুলিয়ার ডিইপিজেড এলাকায় ঢাকা জেলা পুলিশের (এসআই) হেলাল উদ্দীন এর সাথে অটোরিক্সা চালকদের হামলার ঘটনা ঘটেছে, আমাদের হাইওয়ে পুলিশের সাথে কোনকিছু হয়নি, আর হাইওয়ে সড়কে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে, কোনো প্রকার অটোরিক্সা বা ইজিবাইকসহ অবৈধ গাড়ি চলার সুযোগ নেই বলে তিনি দাবী করেন।
অটোরিক্সা চালক মোঃ নাজমুল হক (৩০) বলেন, আমার নিজের ৪টি অটোরিক্সা আছে, আমি একটা রিক্সা চালাই, হাইওয়ে সড়ক থেকে পুলিশ অটোরিক্সা তারিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন, আমি দ্রæত পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের পায়ে লেগে যায তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হলে আমার গাড়ি আটক করতে হেলাল উদ্দীন নামের পুলিশ স্যারের হাতে আমার কপালে আঘাত লাগে, এরপর রাস্তায় থাকা লোকজন ও অটোরিক্সা চালকরা পুলিশকে ঘিরে ফেলে তাকে জরিমানা করে আর তখন পুলিশ আমাকে চিকিৎসার জন্য ৫০০/টাকা দিয়েছেন, এমন ঘটনা আমার জীবনে প্রথম বলে জানান এই রিক্সা চালক নাজমুল। এ দিকে অটোরিক্সা চালকরা অনেকেই বলছিলেন যে, হাইওয়ে পুলিশ প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা মাসিক চাঁদা আদায় করেন বিভিন্ন সিস্টেমে আর এর সাথে অনেকেই জড়িত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *