যশোরের শার্শা উপজেলার ২৯ পুজা মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি।

ধর্ম

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আনোয়ার হোসেন।
আর মাত্রদিন কয়েক পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। যশোরের শার্শা উপজেলায় দুটি থানার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় এ বছর ২৯টি পূজা মন্ডপে চলবে শারদীয় দুর্গা পুজা সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বন্দনা। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে, এখন চলছে রং তুলির কারুকার্য। প্রতিমা শিল্পীরা রং তুলির কাজ নিয়ে পার করছেন ব্যস্ত সময়।উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এবার ২৯ টি পুজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে শার্শা থানায় ২০ টি ও বেনাপোল বন্দর থানায় ৯টি মণ্ডপ। প্রতিমা শিল্পীরা তাদের নিপুন হাতের কারুকার্যে ও রং তুলির আঁচরে প্রতিমাগুলিকে সৌন্দর্য বর্ধন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিছু কিছু মন্ডপে সকল প্রস্তুতি সম্পন্নের পর চলছে মঞ্চ ও অন্যান্য ডেকোরেশনের কাজ।
সকলের সুখ ও মঙ্গল কামনায় মায়ের আগমন ঘটবে এবার। সকল অশুভ শক্তি ও অসুর শক্তির বিনাশ হবে। পৃথিবীর সুন্দর ও শাশ্বত সুন্দরের জয় হবে, এমনটায় আশা করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও  প্রতিটি পূজা মণ্ডপে ৫০০ কেজি চালের সমপরিমাণ ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা অনুদান দেবে সরকার। সাথে থাকছে স্থানীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার। পূজা মণ্ডপগুলোতে যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আনসার বাহিনী ও গ্রাম পুলিশের সাথে থাকছে পুলিশের তিনটি মোবাইল টিম কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে চলমান করোনা পরিস্থিতির কারনে প্রতিমা শিল্পীরা আগের যে মজুরী পেতেন গত দুই বছর ধরে সে পরিমাণে অর্থ না পাওয়ায় ভালো নেই তারা।
বেনাপোল পেচৌড় বাঁওড় মহাশ্মশান দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা শিল্পী সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকার সুশান্তকার সানা বলেন, পূজার আগে এক মাস কাজ করে যে আয় হতো তাদের তা দিয়ে সারা বছর চলতে হয়। করোনার আগে পূজার সময়ে তিনি প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকার কাজ করতেন। কিন্তু এবার মাস জুড়ে তার শ্রমের মূল্য ৫০ হাজারও হচ্ছেনা।
শার্শা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বৌদ্যনাথ দাস জানান, পূজা উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পূজা উদযাপন পরিষদের সাথে উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বৈঠক হয়েছে। তারা বলেছেন, পুজা মন্ডপ গুলোতে সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেয়া হবে।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম জানান, পূজা চলাকালীন সময়ে  মন্ডপগুলোতে যেন কোন প্রকার আইন শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। আমরা পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর সাথে এনিয়ে মত বিনিময় সভা করেছি ।
শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন খান বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পূজা অর্চনার লক্ষ্যে প্রতিটি পূজা মণ্ডপ এলাকায় সকল ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে। কেউ যদি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনূভূতিতে আঘাত হানার চেষ্টা করে বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে তাহলে তা আইনানুগভাবে কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *