আশুলিয়ায় ভূমিদস্যু কর্তৃক জমি দখলের চেষ্টা মামলায় ১ জনকে গ্রেফতার

ক্রাইম রিপোর্ট

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ঢাকার আশুলিয়া ইউনিয়নের আউকপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত চাঁন মিয়া’র ছেলে মোঃ সোনা মিয়া গংদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে জমি দখলের চেষ্টায় ভাংচুর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ভুমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একাধিক জিডি ও মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। এ মামলায় একজন আটক করা হলেও বাকি আসামীরা পলাতক রয়েছে।
শুক্রবার (১১ নভেম্বর ২০২২ইং) সকাল ৬ টার দিকে এই মামলার ৪নং আসামী আব্দুল জলিল মিয়া (৩২), কে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল, এসময় ঢাকা মেট্রো-ন ৭৯০৮ নাম্বারের একটি ট্রাক ইটসহ জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আব্দুল জলিল মিয়া মোঃ খলিল মিয়া প্রধানের ছেলে এবং স্থানীয় রাজু গ্রæপের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ এর হয়ে কাজ করে বলে সূত্র জানায়। এ বিষয়ে জানতে রাজু আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি এখন ব্যস্ত আছি।
আশুলিয়া থানার মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার বাংলাবাজার পুরাতন তুইতাল এলাকার শেখ মতিউর রহমানের ছেলে শেখ জুয়েল রানা (৩৫) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন, মামলা নং ২৮। তারিখ ০৯/১১/২০২২ইং, ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৭৯/ ৪২৭/৫০৬। এ মামলায় বিবাদী ১। আশুলিয়া ইউনিয়নের আউকপাড়া এলাকার মোঃ সোনা মিয়ার ছেলে মোঃ রুবেল হাসান (৩২), ২। মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে মোঃ সোনা মিয়া (৫০), ৩। আশ্রাফ আলীর ছেলে আহম্মদ (৫২), ৪। আব্দুল জলিল মিয়া (৩২), ৫। নুর মোহাম্মদ, ৬। মোঃ আরজু দেওয়ান, সর্বসাং আউকপাড়া, পোঃ ডেইরী ফার্ম,থানা আশুলিয়া, জেলা ঢাকাসহ আরও ভূমিদস্যুদের অনেকের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আশুলিয়া থানায় একাধিক জিডি ও মামলা করায় নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
উক্ত মামলার বাদী শেখ জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে বলেন, সোনা মিয়া ও রুবেল হাসান গং এবং বিবাদীগণ ভূমিদস্যুরা বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত। আশুলিয়া থানাধীন আউকপাড়া মৌজাস্থ আর, এস-৫৫ নং খতিয়ানে আর, এস-২৬৮ নং দাগের বি, আর, এস দাগ নং ২৫০১, ২৫১২, ২০১৩, ২৫১৪, ২৪৯৭, ২৫০০ নং দাগের ৪৬. ৫০ শতাংশ জমি ক্রয়সূত্রে মালিক আমার পিতাসহ মোট ১১জন। জমির চারি দিকে ইটের পাকা বাউন্ডারী করা। একটি প্লটে বাড়ি নির্মাণ করা হয়। যাহাতে ভাড়াটিয়াগণ বসবাস করিত। আমার পিতার জায়গায় ঘর-বাড়ি নির্মাণ করার উদ্দেশ্যে আমি ও আমার চাচা রিয়াজ উদ্দিন, শাহিন, সুমন ও মিস্ত্রিদের নিয়ে প্লটে মাফযোগ করতে গেলে বিবাদীগণ আমাদের কাজে বাঁধা প্রদান করে। তারা আমাদের জায়গায় কোনো রকম কাজ করতে দিবে না বলে ও জায়গায় সন্ত্রাসী কায়দায় আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। তিনি আরও বলেন, বিবাদীরা আমাদের জমি অবৈধভাবে জবর দখল করার পায়তারা করিয়া আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করিতেছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন তারিখে ও বিভিন্ন সময়ে আমাদের জমির উপর থাকা বাউন্ডারী ওয়াল ভাংচুর করিয়া ক্ষতিসাধন করেছে তারা, এক পর্যায়ে আমাদের জমি জবর দখল করার উদ্দেশ্যে বিবাদীরা লাঠি সোটা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বে-আইনীভাবে দলবদ্ধ হইয়া গত (০৬/১১/২০২২ইং) তারিখে সকাল ১০টার দিকে আমাদের জমিতে সন্ত্রাসী কায়দায় অনাধীকার ভাবে প্রবেশ করিয়া আমাদের জমির বাউন্ডারী ওয়াল ভাংচুর করে এর প্রায় ২,০০,০০০/ টাকার ইট লুটপাট করে নিয়ে যায় বিবাদীরা। তিনি আরও বলেন, আমাদের বি, আর, এস দাগ-২৫১২ প্লটে ১ম তলা একটি বাড়ি নির্মাণ করা আছে উক্ত বাড়ির বিদ্যুৎ লাইন কেটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে বাসার ভাড়াটিয়াদের বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে মারধর করিয়া বাহির করে দিয়েছে বিবাদীরা, এই ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ ও র‌্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে আরও একজন বাদী শেখ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ১২০ শতাংশের কাতে আমাদের ৪৬. ৫০ শতাংশ জমি ক্রয়সূত্রে আমরা ১১জন মালিক। সোনা মিয়া, রুবেল গং এলাকার প্রভাবশালী তাই আমাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে, আমরা জমিতে দখলে আছি, আমরা এই জমি ১৯৯৯সালে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়া দলিলমূলে ক্রয় করি এবং জমির মিউটেশন করে খাজনা দিয়ে আসছি, আমাদের জমির কাগজপত্র সঠিক আছে। আমরা এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানায় একাধিক জিডি ও মামলা করেছি। আমাদের এই জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছে বিবাদীরা। আমরা আইনকে সম্মান করি, তাই আইনগত ভাবে লড়ছি, আমরা এর বিচার চেয়ে আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, আশুলিয়া থানা, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন অফিস আদালতে আমাদের বৈধ কাগজপত্র দিয়েছি, এ ব্যাপারে পুলিশ ও র‌্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শেখ রিয়াজ উদ্দিন নামের এই ভুক্তভোগী।
উক্ত ব্যাপারে বিবাদী সোনা মিয়ার কাছে জমির কি কাগজপত্র আছে জানতে চাইলে তিনি জমির কোনো দলিল বা কাগজপত্র দেখাননি এবং কি একটা ৭ নং দাগ বা ৭/৪৪ নং এর কথা বলেন আর একজন সাংবাদিক পরিচয়দানকারীর কাছে মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
আশুলিয়া থানার (এসআই) ফরহাদ বিন কবির এর কাছে উক্ত ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকাল ৯ নভেম্বর ২০২২ইং আশুলিয়া থানায় জুয়েল রানা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন, শুক্রবার আব্দুল জলিল মিয়া নামের এক চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। র‌্যাব জানায়, গোয়েন্দা তদন্ত শেষে আসামীদেরকে গ্রেফতার করা হবে। উক্ত ব্যাপারে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *