সাংবাদিক হত্যা’র বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার দিশেহারা-৩ছেলেকে হারালেন মা!

সারাদেশ

হেলাল শেখঃ ঢাকার ধামরাইয়ে সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিন (৩৭), হত্যার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বিচার পাচ্ছেন না।এক এক করে ৩ ছেলে হারালেন মা। প্রায় ২ বছরের বেশি সময়েও সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি।তার পরিবারের খবর রাখেনি কেউ।
জানা গেছে, সাংবাদিক জুলহাস পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে দিনের বেলা তাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে।‘একজন সাংবাদিক হত্যায় যোগ হয়েছে এক মায়ের ৩টি ছেলের মৃত্যু, মা হারালেন তিন ছেলেকে। পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে অর্ধাহাওে অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঢাকা জেলার ধামরাইয়ে সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিন হত্যা মামলায় বাদীর নারাজী আবেদন খারিজের প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হলেও পুলিশ প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করছে না বলে বাদী পক্ষের অভিযোগ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ঢাকা জেলার ধামরাইয়ের সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনের হত্যাকাÐের পর, তার পরিবারের খবর কেউ রাখেনি বলে তার পরিবারের সদস্যদের দাবি। জুলহাস উদ্দিনের মৃত্যুসহ তার মা হারালেন এক এক করে তিনটি ছেলে সন্তান। এই মৃত্যুর ঘটনার সাথে সাথে যোগ হয়েছে তিন ভাইয়ের মৃত্যু। আর এক এক করে মা হারালেন তাঁর তিন ছেলেকে। সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিন ধামরাই প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও বেসরকারি চ্যানেল বিজয় টেলিভিশনের ধামরাই প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতকোরা গ্রামের মৃত রমিজ উদ্দিনের ছোট ছেলে। দীর্ঘ কয়েক বছর আগে জুলহাস এর বড় ভাই নুর মোহাম্মাদ উদ্দিন (৩৫) এর মৃত্যু হয়। এরপর ২য় ভাই ইয়াহিয়া উদ্দিন (৪০), সৌদি প্রবাসী-বিদেশের মাটিতে তার মৃত্যু হয়। এরপর জুলহাস সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছেন। সাংবাদিকসহ ৩টি ভাই এক এক করে চিরতরে চলে গেছেন। নিহতদের মা বেঁচে থেকে হারালেন তিন ছেলে সন্তানকে।
ধামরাইয়ের সাংবাদিক জুলহাস এর পরিবারে রেখে গেছেন তার মা, ভাবী, স্ত্রী ও ছেলে মোঃ শাহাদাৎ (১১), মেয়ে মোছাঃ জান্নাতি (৮), এবং তাঁর ৪টি বোনসহ তাদের ছেলে মেয়েদের,ওই পরিবারের লোকজনদের খোঁজখবর নেওয়ার মতো কেউ নেই। দুঃখজনক হলেও সত্য সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে, অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে তাদের দাবী।
জানা গেছে, গত ৩/০৯/২০২০ইং দুপুর ৩টার দিকে ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বারবারিয়া বাসষ্ট্যান্ডে সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনের নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে জুলহাস উদ্দিনের সাবেক স্ত্রীর স্বামীসহ ২জনকে আটক করে থামরাই থানা পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন সকালে সাংবাদিক জুলহাস পেশাগত দায়িত্ব পালনে বেড়িয়ে যান, তার ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার মেরামত করার জন্য ধামরাই থেকে মানিকগঞ্জ সদরে যান তিনি, সেখানে তার প্রাইভেটকারটি রেখে যাত্রীবাহী বাসে আবার ধামরাই নিজ এলাকায় বারবারিয়া বাসষ্ট্যান্ডে নামেন, এ সময় শাহিন ও মোয়াজ্জেম নামের দুই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমেই জুলহাস উদ্দিনের গলায় ছুরিকাঘাত করে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা ওই দুই ঘাতক খুনিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
থামরাই থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনের সাবেক স্ত্রীর স্বামীসহ ২জনকে আটক করা হয়। রক্তাক্ত ছুরিটিও জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় মৃত জুলহাস উদ্দিনকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। দেশের কোনো না কোনো এলাকায় সাংবাদিকের উপর হামলা, মামলা করার ঘটনা ঘটছে। পুলিশ দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মামলা দায়ের করে সাংবাদিকদের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। সেই সাথে দেশে বিদেশে অনেক সাংবাদিকের উপর নির্যাতন, হামলা, মামলা করা হলেও এ ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করতে পারেন না, এর কারণে সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনের মতো অনেক সাংবাদিকই হত্যার শিকার হচ্ছেন। দুঃখ লাগে, আর কত সাংবাদিক হামলা, মামলা ও হত্যার শিকার হবে?। বছরের ৩৬৫ দিন সাংবাদিকরা মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন আর একদিন ছোট একটি ভুল করলে সেই সাংবাদিক ভালো না। সেই সাংবাদিকের উপর হামলা, মামলা করা হলেও তার সঠিক বিচার পায়না ভুক্তভোগী সাংবাদিক পরিবার। যেমন: ধামরাইয়ের নিহত সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা অসহায় হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন, কেউ কি এই পরিবারের খবর নিয়েছেন যে, তারা খেয়ে আছেন নাকি না খেয়ে আছেন?। এদিকে এই সাংবাদিক জুলহাস হত্যার সাথে জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাংবাদিক নেতারা। সর্বশেষ কথা হলো, সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না থাকায় হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অনেক সাংবাদিক। উক্ত মামলার বাদী নিহত জুলহাস উদ্দিনের বোন রিনা আক্তার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *