মোঃ শুকুর গাজী , খুলনা প্রতিনিধি/
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক এন্ড প্রটোকল) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ বলেন,খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীর আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং, স্বর্ণ চোরাচালানকারী, মাদক ব্যবসায়ী, হত্যাকান্ডে জড়িত ও কুখ্যাত আসামীদের গ্রেফতারের জন্য সাঁড়াশী অভিযান চালাচ্ছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজরা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। হরিণটানা থানা পুলিশ গত ২ এপ্রিল বুধবার দিবাগত রাতে জানতে পারে যে, সন্ত্রাসী দুই গ্রুপের মধ্য গোলা-গুলি হয়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয় এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। হরিণটানা থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে জনৈক খাইরুল সরদার (২৭), পিতা-সবুর সরদার, সাং-কাঁঠালতলা, থানা-ডুমুরিয়া, জেলা-খুলনাকে সনাক্ত করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে যে, হরিণটানা থানাধীন বাঙ্গালবাড়ি এলাকায় তাদের সন্ত্রাসী দুই গ্রুপের মধ্য গোলা-গুলি হয় এবং অস্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় তার হাতে থাকা পিস্তলের গুলি অসর্তকতার কারণে ফায়ার হয়ে তার বাম হাতের তালুতে লেগে জখমপ্রাপ্ত হয়। সে সন্ত্রাসী ফারুক হোসেনের গ্রুপে ছিল। তখন তাকে নিয়ে হরিণটানা থানা পুলিশ গোয়েন্দা পুলিশ সহযোগে ৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ সকাল থেকে বাঙ্গালীবাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। গুলিবিদ্ধ খাইরুল অস্ত্র বিক্রেতা ফারুক হোসেনের বাড়ি দেখায় দিলে ফারুক হোসেন (২৩), পিতা-মৃত আব্দুল খালেক, সাং-চরকচুড়িয়া, থানা ও জেলা-পিরোজপুর, এ/পি সাং-বাঙ্গালবাড়ি রোড (জনৈক শফিকুল ইসলামের ভাড়াটিয়া), থানা-হরিণটানা, খুলনা এর বাড়ি তল্লাশী করা হয়। এসময় ফারুককে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কাছে অস্ত্র আছে বলে স্বীকার করে। এক পর্যায়ে তার দেখানো মতে তার রান্না ঘরে থাকা জ্বালানি কাঠের স্তূপের মধ্য থেকে ২ টি বিদেশী পিস্তল, তার বসত ঘরের মধ্য থাকা টিনের বাক্সে রাখা একটি শটগান এবং শটগানের ৭ রাউন্ড কার্তুজ, ঘরের ভিতরের দেওয়ালের উপর থেকে পিস্তলের ৮ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১ রাউন্ড এমটি কার্তুজ, তার বসত ঘরের খাটের নিচ থেকে ১ টি বড় রামদা উদ্ধার করা হয়।
এরপর অবৈধ অস্ত্র বেচা কেনার কাজে ব্যবহৃত ১ টি রানার মোটর সাইকেল এবং ১ টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা যায় উদ্ধারকৃত শটগান বাংলাদেশ পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বিভিন্ন সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ এবং দুষ্কৃত্বকারীদের কাছে অবৈধ অস্ত্র কেনা-বেচা করে বলে স্বীকার করে। তাদের পিসিপিআর যাচাই করে খাইরুলের বিরুদ্ধে ১ টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযান এখনো চলমান।