মোঃ রফিকুল ইসলাম, শ্রীপুর গাজীপুর। গাজীপুরের শ্রীপুরে পাচারের সময় ২৮ নভেম্বর রোজ শুক্রবার রাত ১০.১০ ঘটিকার সময় মাক্কির মোড় এলাকা থেকে ৮০ বস্তা DAP সার গাড়িসহ জব্দ করেছে শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ। সামনে বোরো আবাদের মৌসুম। কৃষকদের এ সময় প্রচুর স্যারের প্রয়োজন। ঠিক সেই মুহূর্তে এ অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে সার প্রাচারের ঘটনায় এলাকার সাধারণ কৃষক হতভম্ব হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার ২ নং গাজীপুর ইউনিয়নে। প্রতি বস্তায় বিএডিসি’র লোগোসহ ৫০ কেজি বিডিএফ সার রয়েছে। এসময় পাচারের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকও জব্দ করা হয়। রবিবার ৩০ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত জব্দ করা সারের মালিক কে পাওয়া না যাওয়ায় কাউকে এখন পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত প্রশাসন। এর আগে শুক্রবার ২৮ নভেম্বর রাত ১০.১০ ঘটিকার সময় শ্রীপুর উপজেলার ২নং গাজীপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড নিজমাওনা গ্রামের মাক্কির মোড় থেকে ৮০ বস্তা সারসহ ট্রাক ( ঢাকা মেট্রো -ন ১৯১৮-২৬) আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ জব্দকৃত সারসহ গাড়ি শ্রীপুর মডেল থানায় নিয়ে যায়। শ্রীপুর থানাধীন মাওনা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এস আই) মিজানুর রহমান বলেন,” নিজমাওনা সারের ডিলার জসিম উদ্দিনের বড় ভাই আফির উদ্দিনের মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ নামক সারের দোকান থেকে সার ভর্তি ট্রাকটি দ্রুত গতিতে যেতে থাকলে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে মাক্কির মোড়ে সার ভর্তি ট্রাকটি তারা আটক করে। গাড়ির ড্রাইভার নুরুল হক আটককৃত সারের কোন প্রকার কাগজপাতি দেখাতে পারেনি। এরপর ট্রাকের উপরে মোড়ানো নীল পলিথিন সরিয়ে বিএডিসির লোগো সংযুক্ত সার দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটককৃত ৮০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। নিজমাওনা বাজারের আফির উদ্দিনের মালিকানাধীন মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে পাচারকৃত সার গুলো লোড করা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে ড্রাইভারকে আমরা পাইনি। অন্য ড্রাইভার এর সহযোগিতায় গাড়িটি থানায় আনতে হয়েছে। “ট্রাক চালক নুরুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমি ভাড়া মাল খেপাই। আফির ভাই আমাকে বলেছে ৮০ বস্তা সার টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর উপজেলার তকতারচালায় নিয়ে যেতে। আমাকে কোন প্রকার ক্যাশ মেমো বা কাগজ পাতি দেয়নি। ” এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক সদস্য এবং গাজীপুর ইউনিয়ন আহ্বায়ক সদস্য মোঃ আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ” খবর পেয়ে গভীর রাত্রে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। ঘটনার সত্যতা পাই। তিনি বলেন, বর্তমানে এমনিতেই সারের সংকট চলছে। সামনে বোরো ধানের চাষ। এই মুহূর্তে এই অঞ্চল থেকে সরকারি সার অন্য উপজেলায় পাচার করা মানেই এই অঞ্চলে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা। যারা এই অপরাধে জড়িত তাদের প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র আর একজন আহবায়ক সদস্য আবুল মন্ডল বলেন,” যারা এই অপকর্মে জড়িত তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হোক। যাতে পরবর্তীতে কেউ সারের কৃতিম সংকট তৈরি করতে না পারে। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, “স্থানীয় জনতার সারসহ গাড়ি আটকের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরে পাচারকৃত সারসহ ট্রাক জব্দ করে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করি। সারসহ ট্রাক পুলিশের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। পরক্ষণেই মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। দোকানে যে পরিমাণ সার থাকার কথা সরজমিনে আমরা তাই পাই। এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তথ্য উঠে আসার কথাও জানান তিনি। সারের মালিক পাওয়া না গেলে আটকৃত সার নিলামে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা রাখা হবে। ” শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ” সার আটকের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজে অভিযান পরিচালনা করি। কৃষি অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়া যায়। ” তিনি আরো বলেন, “তাহলে সার কোথা থেকে, কিভাবে এসেছে তা তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। “সারের ডিলার মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমার মনে হয় কেউ আমার বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। তবে, তদন্তের মাধ্যমে সত্য বাহির হয়ে আসুক এটা আমি চাই। “স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ” আমাদের অঞ্চলের বরাদ্ধকৃত সার অন্য কোথাও পাচার হয়ে গেলে আমরা সার সংকটের কবলে পরবো। যার প্রভাব আমাদের কৃষি কাজের উপর সরাসরি আঘাত হানবে। সে কারণে এই অপকর্মে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা উচিত। “
