
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ নারীসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের পৃথক মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর হাজীগঞ্জের বেপারীডাঙ্গী ও বিন্দুডাঙ্গী এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।আটকরা হলেন, বিন্দুডাঙ্গী গ্রামের শেখ মোকলেছের মেয়ে রিমা আক্তার এবং বেপারীডাঙ্গী গ্রামের আবুল মৃধার ছেলে রাশেদ মৃধা।ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে নিজ নিজ বাড়ি থেকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় তাদের আটক করা হয়। এ সময় রিমা আক্তারের কাছ থেকে ৫ পিস এবং রাশেদ মৃধার কাছ থেকে ৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক সেবনের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক সাইফুলের নেতৃত্বে ডিএনসির একটি দল অভিযান দুটি পরিচালনা করে।পরে আটক দুজনকে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী রিমা আক্তারকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা এবং রাশেদ মৃধাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেন।মামলায় প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডিএনসি ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের (ক. সার্কেল) পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন।অভিযানে অসহযোগিতার অভিযোগএদিকে অভিযান পরিচালনার সময় স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি ও এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছে ডিএনসি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোথাও কোথাও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণে পক্ষপাতের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে, যা মাদকবিরোধী অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।ডিএনসির পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধিদের প্রতিনিধি এবং গ্রামবাসীকে মাদকবিরোধী অভিযানে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। মাদক নির্মূলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ফরিদপুর জেলায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
জাহিদ হোসেন (সজল), ফরিদপুর: