ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপোষহীনতা: জনগণের কল্যাণ নাকি ক্ষতির কারণ?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • 83

অ্যাডভোকেট মোঃ রেজাউল করিম। জজ কোর্ট, ফরিদপুর: রাজনীতির অঙ্গনে একটি বহুল প্রচলিত শব্দ— “আপোষহীন নেতা” বা “আপোষহীন নেত্রী”। শব্দটি শুনতে শক্তিশালী, দৃঢ়তার প্রতীক বলেই মনে হয়। কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করলে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—এই আপোষহীনতা আসলে কার জন্য? এটি কি জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বে একটি কৌশল মাত্র?গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতবিরোধ থাকাটা স্বাভাবিক। বরং মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই প্রকাশ করে। কিন্তু সেই মতবিরোধ যখন আলোচনার টেবিলে সমাধান না হয়ে রাজপথে নেমে আসে, আন্দোলনের নামে সংঘর্ষে রূপ নেয়, তখন তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে।বাস্তবতা হলো, এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘাতের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয় জনগণ। হরতাল, অবরোধ কিংবা সহিংস কর্মসূচির কারণে বন্ধ হয়ে যায় ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাহত হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, থমকে যায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দিনমজুর থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সবার জীবনেই নেমে আসে অনিশ্চয়তা ও ক্ষতির ছায়া।এক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগে—যে আপোষহীনতা জনগণের দুর্ভোগ বাড়ায়, সেই আপোষহীনতার মূল্য কতটুকু? গণতন্ত্রের মূল চেতনা কি সংঘাত, নাকি সমাধান? বিরোধ কি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য পথ তৈরি করবে?রাজনীতি হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণের জন্য। সেখানে আপোষ মানে আত্মসমর্পণ নয়, বরং বৃহত্তর স্বার্থে সমঝোতা। যদি সেই সমঝোতার মাধ্যমে জনগণের জীবন সহজ হয়, স্থিতিশীলতা ফিরে আসে—তাহলেই প্রকৃত অর্থে রাজনীতির সার্থকতা অর্জিত হবে।অতএব, সময় এসেছে রাজনীতির ভাষা পরিবর্তনের। আপোষহীনতার অহংকার নয়, বরং জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীল ও বিবেচনাপূর্ণ নেতৃত্বই হোক রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগাতিপাড়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

আপোষহীনতা: জনগণের কল্যাণ নাকি ক্ষতির কারণ?

Update Time : ০৩:৫১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

অ্যাডভোকেট মোঃ রেজাউল করিম। জজ কোর্ট, ফরিদপুর: রাজনীতির অঙ্গনে একটি বহুল প্রচলিত শব্দ— “আপোষহীন নেতা” বা “আপোষহীন নেত্রী”। শব্দটি শুনতে শক্তিশালী, দৃঢ়তার প্রতীক বলেই মনে হয়। কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করলে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—এই আপোষহীনতা আসলে কার জন্য? এটি কি জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বে একটি কৌশল মাত্র?গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতবিরোধ থাকাটা স্বাভাবিক। বরং মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই প্রকাশ করে। কিন্তু সেই মতবিরোধ যখন আলোচনার টেবিলে সমাধান না হয়ে রাজপথে নেমে আসে, আন্দোলনের নামে সংঘর্ষে রূপ নেয়, তখন তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে।বাস্তবতা হলো, এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘাতের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয় জনগণ। হরতাল, অবরোধ কিংবা সহিংস কর্মসূচির কারণে বন্ধ হয়ে যায় ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাহত হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, থমকে যায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দিনমজুর থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সবার জীবনেই নেমে আসে অনিশ্চয়তা ও ক্ষতির ছায়া।এক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগে—যে আপোষহীনতা জনগণের দুর্ভোগ বাড়ায়, সেই আপোষহীনতার মূল্য কতটুকু? গণতন্ত্রের মূল চেতনা কি সংঘাত, নাকি সমাধান? বিরোধ কি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য পথ তৈরি করবে?রাজনীতি হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণের জন্য। সেখানে আপোষ মানে আত্মসমর্পণ নয়, বরং বৃহত্তর স্বার্থে সমঝোতা। যদি সেই সমঝোতার মাধ্যমে জনগণের জীবন সহজ হয়, স্থিতিশীলতা ফিরে আসে—তাহলেই প্রকৃত অর্থে রাজনীতির সার্থকতা অর্জিত হবে।অতএব, সময় এসেছে রাজনীতির ভাষা পরিবর্তনের। আপোষহীনতার অহংকার নয়, বরং জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীল ও বিবেচনাপূর্ণ নেতৃত্বই হোক রাজনীতির মূল লক্ষ্য।