রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: মো: আতিকুর রহমান১১-০৬-২০২৬:
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায় দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর অবশেষে উদ্ধার হয়েছেন সেই বৃদ্ধ। তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধের নাম ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৬৮)। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা-এর চাঁন্দলাই গ্রামের বাসিন্দা এবং বাবু চন্দ্র বর্মনের ছেলে।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের সামনে শূন্যরেখা থেকে তাকে উদ্ধার করে বিজিবি সদস্যরা। পরে তাকে বকশীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ধানুয়া কামালপুর বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বর্তমানে তিনি থানার হেফাজতে রয়েছেন।জানা গেছে, বুধবার (১০ জুন) সকালে রামরামপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের অবস্থানের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি শূন্যরেখায় আটকে থাকেন।ঘটনার ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ছবির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারের দেওয়া তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন জানান, “বৃদ্ধের জাতীয় পরিচয়পত্র আমরা পেয়েছি। বিজিবি তাকে থানায় পাঠিয়েছে। তার স্বজনরা রাজশাহী থেকে বকশীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তারা পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”এদিকে দীর্ঘ সময় সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা এক বৃদ্ধকে ঘিরে সৃষ্ট মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া এবং তাকে নিরাপদে উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পরিবার ও এলাকাবাসী।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের সংসারে স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছেন। তার চার মেয়েরই বিয়ে হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলেন। উদ্ধার ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার খবরে তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন।
Reporter Name 





