ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীমণি-মোহের চড়া মাশুল: ঝিনাইদহ থেকে চাকরি হারিয়ে বিদায় নিলেন ডিবি এডিসি সাকলায়েন।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • 72

মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি-

চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গতা’ এবং পেশাগত শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সর্বশেষ তিনি ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ অনুযায়ী সাকলায়েনকে এই ‘গুরুদণ্ড’ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে পিএসসিতে পাঠানো এক চিঠিতে সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাকলায়েন ডিবিতে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) নায়িকা পরীমণির বাসায় অবস্থান করেছেন। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী চরম অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

২০২১ সালের ১৩ জুন ঢাকার অদূরে সাভারের বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অভিযোগ এনে মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। মামলার তদন্তভার পান ডিবির গুলশান বিভাগের তৎকালীন এডিসি গোলাম সাকলায়েন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমণিকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময়ই সাকলায়েনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

পরবর্তীতে র‍্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে পরীমণি গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিষয়টি ভিন্ন মোড় নেয়। বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলার তদন্তভার সিআইডিতে হস্তান্তরের পর, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গণমাধ্যমে সাকলায়েনের সঙ্গে পরীমণির ‘অন্তরঙ্গতা’র বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

সাকলায়েনের সরকারি বাসভবন ও পরীমণির ফ্ল্যাটে দুজনের যাতায়াতের সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড পরীক্ষা করে অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি।
পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং পেশাগত নৈতিকতা ভঙ্গের দায়ে প্রথমে তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিভাগীয় প্রক্রিয়া ও তদন্ত শেষে অবশেষে তাকে স্থায়ীভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগাতিপাড়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

পরীমণি-মোহের চড়া মাশুল: ঝিনাইদহ থেকে চাকরি হারিয়ে বিদায় নিলেন ডিবি এডিসি সাকলায়েন।

Update Time : ১২:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি-

চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গতা’ এবং পেশাগত শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সর্বশেষ তিনি ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ অনুযায়ী সাকলায়েনকে এই ‘গুরুদণ্ড’ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে পিএসসিতে পাঠানো এক চিঠিতে সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাকলায়েন ডিবিতে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) নায়িকা পরীমণির বাসায় অবস্থান করেছেন। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী চরম অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

২০২১ সালের ১৩ জুন ঢাকার অদূরে সাভারের বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অভিযোগ এনে মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। মামলার তদন্তভার পান ডিবির গুলশান বিভাগের তৎকালীন এডিসি গোলাম সাকলায়েন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমণিকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময়ই সাকলায়েনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

পরবর্তীতে র‍্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে পরীমণি গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিষয়টি ভিন্ন মোড় নেয়। বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলার তদন্তভার সিআইডিতে হস্তান্তরের পর, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গণমাধ্যমে সাকলায়েনের সঙ্গে পরীমণির ‘অন্তরঙ্গতা’র বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

সাকলায়েনের সরকারি বাসভবন ও পরীমণির ফ্ল্যাটে দুজনের যাতায়াতের সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড পরীক্ষা করে অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি।
পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং পেশাগত নৈতিকতা ভঙ্গের দায়ে প্রথমে তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিভাগীয় প্রক্রিয়া ও তদন্ত শেষে অবশেষে তাকে স্থায়ীভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার।